Freelancing করে কিংবা একটি Website খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায় তার উপায় খুজঁছেন অনেকেই। এক্ষেত্রে কেউ কেউ সফল হয়, আর বাকিরা সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে সামনে অগ্রসর হতে পারে না।

আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে, তাহলে আপনি এটি থেকে লাইফটাইম প্যাসিভ ইনকাম করতে পারেন। ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়, আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানতে পারবেন। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

সত্যিই কি ওয়েবসাইট খুলে টাকা আয় করা যায়?
হ্যাঁ যায়। আপনি আপনার অমূল্য জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে একটি ওয়েবসাইট থেকে বেশ ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আপনি হয়তো শুনে থাকবেন, একটি ওয়েবসাইট থাকলেই প্রচুর পরিমাণে উপার্জন সম্ভব। কিন্তু এই কথার আসলে কোন ভিত্তি নেই। আপনি যদি একটি ওয়েবসাইটে আপনার ইউনিক সব জ্ঞান ও আইডিয়া প্রয়োগ না করতে পারেন, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের আসলে কোন মূল্যই নেই।

ইন্টারনেটে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সার্চ করে। আপনি যদি মানুষের প্রয়োজনীয় এ সব তথ্য আপনার ওয়েবসাইটে সুন্দরভাবে সাজাতে পারেন, তাহলে খুব শীঘ্রই আপনার ওয়েবসাইটে অসংখ্য ভিজিটর নিয়ে আসতে পারেন। আর এর ফলে অচিরেই আপনি আপনার কাঙ্খিত উপার্জন শুরু করতে পারেন।

ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?
আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করলেন এবং সেখানে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ট্রাফিকও নিয়ে আসলেন। কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ওই ওয়েবাসাইটের মাধ্যমে আপনি কিভাবে টাকা আয় করবেন?

একটি ওয়েবাসাইটের মাধ্যমে উপার্জনের অনেকগুলো উপায় আছে। যেমন: অ্যাডসেন্স (AdSense), লোকাল বিজ্ঞাপন (Local Ads), কনটেন্ট রাইটিং (Content Writing), ই-কমার্স (E-commerce), ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing), অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate marketing), পেইড রিভিউ (Paid Review) এবং ট্রাফিক সেল (Traffic sell)। সঠিক দিক-নির্দেশনা মানলে আপনি এই সবগুলো উপায় থেকেই অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। তাহলে চলুন, প্রতিটি সেক্টর সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।

১. গুগল অ্যাডসেন্স (Google Adsense)
ওয়েবসাইট খুলে টাকা আয় করার জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হচ্ছে গুগল অ্যাডসেন্স। বর্তমানে বিশ্বের লাখ লাখ ওয়েবসাইট Adsense এর মাধ্যমে যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ উপার্জন করছে। আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে, আর সেখানে থাকে অনেক ট্রাফিক; তাহলে আপনিও Adsense এ Apply করতে পারবেন।

Adsense হচ্ছে বর্তমান বিশ্বে সবথেকে বেশি প্রচলিত বেস্ট এ্যাড নেটওয়ার্ক, যা প্রায় অধিকাংশ ব্লগারই ব্যবহার করে থাকে। Adsense মূলত CPC নির্ভর বিজ্ঞাপন সরবারহ করে থাকে। যা তাদের অন্যদের মধ্যে সেরা করে তুলেছে।

তবে একটি Adsense একাউন্ট পেতে হলে আপনাকে তাদের সব কঠোর গাইডলাইন এবং নীতিমালা মেনে চলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সবকিছু ঠিক-ঠাক থাকলে আপনার কনটেন্টে গুগল তাদের কোয়ালিটি সম্পন্ন বিজ্ঞাপন প্রদর্শন শুরু করবে, যা আপনাকে বেশ ভালো পরিমাণে রেভিনিউ এনে দেব।

আপনার Adsense এ্যাকাউন্টে যদি অন্তত ১০০ ডলার থাকে, তাহলেই আপনি তা উত্তোলন করতে পারবেন। আর আপনার ওয়েবসাইটে যদি ভালো কনটেন্ট এবং ট্রাফিক থাকে, তাহলে মাসে ১০০ ডলার ইনকাম খুব কঠিন কিছুই না। এখান থেকে উপার্জিত টাকা আপনি Electronic Fund Transfer (EFT), Western Union Quick Cash অথবা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে হাতে নিতে পারেন।

২. লোকাল বিজ্ঞাপন (Local Ads)
এ্যাডসেন্সের পাশাপাশি আপনি লোকাল বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করেও যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। একটা সময় আপনার ওয়েবসাইটে যখন অনেক ভিজিটর আসা শুরু করবে, তখন আপনি স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য আহ্বান করতে পারেন। প্রতিটি বিজ্ঞাপনের জন্য বিভিন্ন সাইজের অনুযায়ী ১০০০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকা গ্রহণ করতে পারেন।

আপনার ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা যদি অনেক বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রে আপনার বিজ্ঞাপনের রেটও বৃদ্ধি পাবে। একটা সময়ে বিজ্ঞাপনদাতা বিভিন্ন সংস্থা নিজ থেকেই আপনাকে খুঁজে বের করবে স্পন্সর করার জন্য। বর্তমানে এমন অসংখ্য ব্লগার আছে, যারা গুগল এ্যাডসেন্সের পাশাপাশি লোকাল এ্যাড স্পেস ভাড়া দিয়ে প্রচুর উপার্জন করছে।

৩. পেইড রিভিউ কনটেন্ট (Paid Review Content)
আপনি যদি একজন ভালো কনটেন্ট রাইটার হয়ে থাকেন, তাহলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার রিভিউ আপনার ওয়েবসাইটে লিখে ইনকাম করতে পারেন। প্রযুক্তির উৎকর্ষতা বৃদ্ধির জন্য বর্তমানে অনলাইন নির্ভর বিভিন্ন ব্যবসা বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বা সেবার প্রচারণার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন রিভিউ লেখকদের খোঁজ করে থাকে।

একজন রিভিউ লেখকের দায়িত্ব হচ্ছে উক্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো ক্রেতার সামনে তুলে ধরা, যাতে করে একজন ক্রেতা সেই পণ্য বা সেবা গ্রহণ করতে আকৃষ্ট হয়। এটা করতে পারলে ওই সকল প্রতিষ্ঠান থেকে আপনি তাদের পণ্যের জন্য রিভিউ লেখার কাজ পাবেন। আর এ কাজের জন্য ভালো সম্মানীও পাবেন।

এতে করে আপনি উভয় দিক থেকে লাভবান হচ্ছেন। প্রথমত, উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণে সম্মানী পাচ্ছেন। অপরদিকে আপনার লেখা রিভিউগুলো কিন্তু আপনার ওয়েবসাইটেই থেকে গেল। যা আপনি আপনার অন্য ক্লায়েন্টদের দেখিয়ে নতুন কোন প্রজেক্ট নিতে পারবেন।

তবে বিভিন্ন পণ্য বা সেবার ওপর চমৎকার সব রিভিউ লেখার জন্য আপনাকে কনটেন্ট রাইটিং এ পারদর্শী হতে হবে। যেন-তেন মানের লিখতে জানলেই হবে না।

৪. ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) করে আয়
অনলাইন ভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রে বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে এখন যে কেউ ঘরে বসেই যথেষ্ট পরিমাণে উপার্জন করতে পারে। যুগান্তরে ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশে ৬ লক্ষের বেশি সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। যাদের মাধ্যমে প্রতি বছর দেশে ১০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আসছে।

আপনি যদি কম্পিউটারে বিভিন্ন কাজে পারদর্শী হয়ে থাকেন, তাহলে সেই কাজগুলোর নমুনা আপনার নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে পারেন। এটা অনেকটা আপনার পোর্টফোলিও হিসেবে কাজ করবে। ফলে কেউ যদি আপনাকে দিয়ে কোন কাজ করাতে চায় এবং আপনার কাজের পূর্ব নমুনা দেখতে চায়, তাহলে আপনি তাকে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক দিতে পারেন।

একজন বায়ার আপনার ওয়েবসাইটে সাজানো নমুনাগুলো দেখে আপনাকে যাচাই করবে। পছন্দ হলে তিনি আপনাকে তার প্রজেক্টটি দেবেন। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, একজন ফ্রিল্যান্সারের নিজের একটি ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট (পোর্টফোলিও) থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

৫. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate marketing) করে আয়
বিশ্বের বাঘা বাঘা সব ব্লগাররা তাদের ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছে। শুরুতেই এত বড় অংকের টাকা উপার্জন হয়তো অসম্ভব বটে। কিন্তু ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধির সাথে সাথে একটা সময়ে আপনি সত্যিকার অর্থেই অনেক পরিমাণে উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে আগে এটি সম্পর্কে বিস্তর ধারণা রাখতে হবে। মনে করুন, আপনার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন অনেক ভিজিটর আসে। আপনি এ সকল ভিজিটরদের টার্গেট করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন জনপ্রিয় প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের প্রচারণা করতে পারেন।

এটা অনেকটা পূর্বে উল্লেখ করা পেইড রিভিউ কনটেন্টের মতোই। কিন্তু মূল পার্থক্য হচ্ছে যে, রিভিউ কনটেন্টে আপানাকে রিভিউ লেখার জন্য টাকা দেয়া হয়। কিন্তু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ আপনাকে প্রতিটি প্রোডাক্ট সেল দেয়ার বিনিময় একটি কমিশন দেয়া হবে।

এক্ষেত্রে আপনি যখন কোন পণ্যের রিভিউ লেখার শেষে সেই পণ্যটি ক্রয়ের জন্য আপনার কনন্টের শেষে একটি লিংক যুক্ত করে দেন, আর সেই লিংকে ক্লিক করে কেউ যদি উক্ত পণ্য ক্রয় করে, তাহলে প্রতিটি ক্রয়ের মূল্য থেকে আপনি একটি কমিশন পাবেন। প্রতিষ্ঠান এবং পণ্যভেদে এই কমিশনের পরিমাণ ১৫% থেকে ২৫% হয়ে থাকে। বিশেষ কিছু পণ্যে এর থেকেও বেশি কমিশন দেয়া হয়।

অ্যামাজন এবং আলি এক্সপ্রেস বিশ্বব্যাপী দুটি জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে তাদের পণ্য বিক্রি করে যথেষ্ট পরিমাণে উপার্জন করতে পারেন। বাংলাদেশেও দারাজ এবং 10 Minute School সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে, যারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুযোগ দিচ্ছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x