b

ব্যবসায় উদ্যোগের ধারণা বিশ্লেষণ করলে যে সকল বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলি লক্ষ করা যায় তা হলোঃ

  • এটি ব্যবসায় স্থাপনের কর্ম উদ্যোগ। ব্যবসায় স্থাপন সংক্রান্ত সকল কর্মকাণ্ড সফলভাবে পরিচালনা করতে ব্যবসায় উদ্যোগ সহায়তা করে।
  • ঝুঁকি আছে জেনেও লাভের আশায় ব্যবসায় পরিচলনা। ব্যবসায় উদ্যোগ সঠিকভাবে ঝুঁকি পরিমাপ করতে এবং পরিমিত ঝুঁকি নিতে সহায়তা করে।
  • ব্যবসায় উদ্যোগের ফলাফল হলো একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। এর মানে হলো ব্যবসায় উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা কোনো চিন্তা-ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করে।
  • ব্যবসায় উদ্যোগের অন্য একটি ফলাফল হলো একটি পণ্য বা সেবা।
  • ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে পরিচালনা করা।
  • নিজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা নিজের উপার্জনের ব্যবস্থা করতে পারেন।
  • অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ব্যবসায় উদ্যোগ মালিকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন।
  • নতুন সম্পদ সৃষ্টি করা ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে যেমন মানবসম্পদ উন্নয়ন হয় তেমনি মূলধনও গঠন হয়।
  • সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা। ব্যবসায় উদ্যোগ দেশের আয় বৃদ্ধি ও বেকার সমস্যার সমাধানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও অবদান রাখতে পারে।
  • মুনাফার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা গ্রহণ করা। ব্যবসায় উদ্যোগ উদ্যোক্তাদের সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত করে।

আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগের গুরুত্ব (Importance of Business Entrepreneurship in Socio-Economic Development)

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১০’ অনুযায়ী আমাদের মোট জাতীয় উৎপাদনের প্রায় ৫০ ভাগ আসে সেবা খাত থেকে, প্রায় ২০ ভাগ আসে কৃষি খাত থেকে বাকি ৩০ ভাগ আসে শিল্প খাত থেকে। যেকোনো দেশের উন্নয়নে শিল্পখাত মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্প খাত সহ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব। ব্যবসায় উদ্যোগ নিম্নোক্তভাবে আমাদের দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে–

  • সম্পদের সঠিক ব্যবহারঃ ব্যবসায় উদ্যোগ আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে। তাছাড়া নতুন নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।
  • জাতীয় উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিঃ ব্যবসায় উদ্যোগ এর মাধ্যমে দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। ফলে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত জাতীয় আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়।
  • নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিঃ সরকারের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমেও দেশের শিল্প কারখানা স্থাপন, পরিচালনা ও সম্প্রসারণ হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে নিত্যনতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় যা বেকার সমস্যা দূর করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
  • দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টিঃ বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। আমাদের এই বিশাল জনসংখ্যাই আমাদের সম্পদ হতে পারে। কারণ ব্যবসায় উদ্যোক্তা দেশের অধ্যক্ষ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত করে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে পারে।
  • পরনির্ভরশীলতা দূরীকরণঃ ব্যবসায় উদ্যোগ এর মাধ্যমে আমরা আমাদের পরনির্ভরশীলতা অনেকাংশে হ্রাস করতে পারি। ব্যবসায় উদ্যোগ এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা একদিন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারব।

 

ব্যবসায় উদ্যোগ কিভাবে পরনির্ভরশীলতা দূর করে?

মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ঝুঁকি নিয়ে কোন ব্যবসায় স্থাপন করা হলো ব্যবসায় উদ্যোগ।

এ উদ্যোগ নেওয়া ফলে একজন ব্যক্তি সহজে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এ পেশায় তিনি অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজেই নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া তিনি অন্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। এভাবে উদ্যোক্তা ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে পরনির্ভরশীলতা দূর করে থাকেন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x