মোগল আমলে বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটে। আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরি থেকে মােগল আমলে বাণিজ্যের প্রসারের যেগুলি পরিচয় পাওয়া যায়।

(১) ঐতিহাসিকগণ মনে করেন মােগল আমলে সুশৃঙ্খল শাসন কাঠামাের সুবাদে ব্যাবসা-বাণিজ্য এই যুগে সমৃদ্ধি লাভ করে।

(২) মােগল আমলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা শিল্প পরিচালিত হত। সম্রাটরা শিল্প উৎপাদনে উৎসাহ দিতেন। ফলে শিল্পপণ্যের বিক্রির প্রয়ােজনে অন্তর্দেশীয় ও বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।

(৩) স্থলপথে গােটা সাম্রাজ্য জুড়ে শিরা উপশিরার মতাে রাস্তা এবং তাতে পাহারার ব্যবস্থা ও সরাইখানা ছড়িয়ে পড়ায় অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহনের সুবিধা ছিল।

(৪) জলপথে গঙ্গা, যমুনা, সিন্ধুনদ সমৃদ্ধ নদীমাতৃক দেশ ভারতবর্ষ। তিনদিক সমুদ্র ঘেরা হওয়ায় বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।

(৫) সুরাট, ক্যাম্বে, কালিকট, কোচিন, মুসলিপত্তম, চট্টগ্রাম, সপ্তগ্রাম ছিল বিখ্যাত বন্দর ও শহর। এই বন্দরগুলি দিয়ে সিংহল, ব্রয়দেশ, চিন, জাপান, পারস্য, আরব দেশে বৈদেশিক বাণিজ্য চলত। দেশের নানা অঞ্চলে ধনী বণিকরা জাহাজ নির্মাণ শিল্পে পৃষ্ঠপােষকতা করত।

(৬) মােগল রাষ্ট্রব্যবস্থায় সুস্থির মুদ্রানীতি ব্যাবসাবাণিজ্যের পরিমণ্ডলে ভারসাম্য রচনা করে।

(৭) এই সময় শুল্ক ব্যবস্থাতেও এক দীর্ঘস্থায়ী নীতির প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। এই নীতি ছিল সর্বার্থেই বণিকদের স্বার্থের অনুকূল।

(৮) মােগল সম্রাটরা নগদ অর্থে বেতন দিতেন বলে সমাজের একাংশের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে পণ্য উৎপাদন ও ক্রয়বিক্রয়ের এক চক্রাকার পরিমণ্ডল রচিত হয়।

(৯) অভ্যন্তরীণ ব্যাবসাবাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মােগল আমলে ওলন্দাজ, পাের্তুগিজ, ফরাসি, ইংরেজ প্রভৃতি ইউরােপীয় কোম্পানিগুলির আগমনে সামুদ্রিক তথা বৈদেশিক বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিমণ্ডল সমৃদ্ধ হয়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x