যে যন্ত্র বা মেশিনের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে ডিসি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে ডিসি জেনারেটর (DC Generator) বলে।

ডিসি জেনারেটরের প্রকারভেদ (Types of DC Generator)

ডিসি জেনারেটরের প্রকারভেদ নিম্নে দেয়া হলো–
ডিসি জেনারেটর প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
(ক) সেলফ এক্সাইটেড জেনারেটর এবং
(খ) সেপারেটলি এক্সাইটেড জেনারেটর।

আবার, সেলফ এক্সাইটেড জেনারেটর তিন প্রকার। যথা–
(ক) সিরিজ জেনারেটর;
(খ) শান্ট জেনারেটর এবং
(গ) কম্পাউন্ড জেনারেটর।

আবার, কম্পাউন্ড জেনারেটর দুই প্রকার। যথা–
(ক) লং শান্ট এবং
(খ) শর্ট শান্ট।

বিভিন্ন প্রকার ডিসি জেনারেটর

  • সেলফ্ এক্সাইটেড জেনারেটর : যে সকল জেনারেটরের ফিল্ডকে জেনারেটর কর্তৃক উৎপাদিত কারেন্ট দ্বারা উত্তেজিত করা হয়, তাকে সেলফ্ এক্সাইটেড জেনারেটর বলে।
  • সেপারেটলি এক্সাইটেড জেনারেটর : যে সকল জেনারেটরের ফিল্ডকে পৃথক একটি ডিসি সরবরাহ বা সঞ্চয়ী ব্যাটারির সাহায্যে কারেন্ট সরবরাহ করে উত্তেজিত করা হয়, তাকে সেপারেটলি এক্সাইটেড জেনারেটর বলে।
  • সিরিজ জেনারেটর : যে জেনারেটরের ফিল্ড কয়েল আর্মেচারের সাথে সিরিজে সংযোগ থাকে, তাকে সিরিজ জেনারেটর বলে।
  • শান্ট জেনারেটর : যে জেনারেটরের ফিল্ড কয়েল আর্মেচারের সাথে প্যারালালে সংযোগ থাকে, তাকে শান্ট জেনারেটর বলে।
  • কম্পাউন্ড জেনারেটর : যে জেনারেটরে দুইটি ফিল্ড কয়েল থাকে, একটি আর্মেচারের সাথে প্যারালালে এবং অন্যটি সিরিজে সংযোগ থাকে, তাকে কম্পাউন্ড জেনারেটর বলে।
  • শর্ট শান্ট কম্পাউন্ড জেনারেটর : যে জেনারেটরের আর্মেচারের প্যারালালে শান্ট-ফিল্ড এবং সিরিজ ফিল্ড কয়েল সংযোগ করা হয়, তাকে শর্ট-শান্ট কম্পাউন্ড জেনারেটর বলে।
  • লং শান্ট কম্পাউন্ড জেনারেটর : যে জেনারেটরের আর্মেচারের সাথে ফিল্ড কয়েল সিরিজে এবং শান্ট ফিল্ড কয়েল প্যারালালে সংযোগ করা হয়, তাকে লং-শান্ট কম্পাউন্ড জেনারেটর বলে।

 

ডিসি জেনারেটরের বিভিন্ন অংশ

ডিসি জেনারেটর দুটি সার্কিট নিয়ে গঠিত। যথা–
(১) ম্যাগনেটিক সার্কিট এবং
(২) বৈদ্যুতিক সার্কিট।

ম্যাগনেটিক সার্কিট নিম্নলিখিত অংশগুলো নিয়ে গঠিত–
(১) ইয়োক বা ফ্রেম;
(২) পোল কোর ও পোল স্যু;
(৩) আর্মেচার কোর;
(৪) এয়ার গ্যাপ ইত্যাদি।

বৈদ্যুতিক সার্কিট নিম্নলিখিত অংশগুলো নিয়ে গঠিত–
(১) ফিল্ড কয়েল;
(২) আর্মেচার ওয়াইন্ডিং;
(৩) কম্যুটেটর;
(৪) ব্রাশ ইত্যাদি;

ডিসি জেনারেটরের বিভিন্ন অংশের বর্ণনা

  • ইয়োক : এটি ঢালাই লোহা বা ইস্পাতের তৈরি। এটি সমগ্র মেশিনের বহিরাবরণ। এর প্রধান দুটি কাজের মধ্যে একটি হলো- পোল ও বিয়ারিং হাউসকে ধরে রাখা এবং অপরটি হলো- পোলের চৌম্বক প্রবাহের পথ তৈরি করে দেয়া।
  • পোল স্যু : পোল কোরের প্রান্ত ভাগ বৃত্তাকার হয় এবং দুদিকে কিছুটা প্রসারিত থাকে, তাকে পোল স্যু বলে। এতে ফিল্ড কয়েলকে কোরের চারপাশে ধরে রাখতে সুবিধা হয়।
  • পোল কোর : পোল কোর ইস্পাতের তৈরি। এটি ঢালাই ইস্পাতের পাতলা পাতলা শীট একত্রে রিভেট করে তৈরি করা হয়। শীটগুলোর মাঝখানে ইনস্যুলেশন দেয়া থাকে। ঢালাই লোহার পরিবর্তে ঢালাই ইস্পাত ব্যবহার করা হয়।
  • আর্মেচার কোর : আর্মেচার কোর গোলাকার ইস্পাত শীট দ্বারা তৈরি করা হয়। এ শীটগুলো সাধারণত ০.৪ মিলিমিটার হতে ০.৫ মিলিমিটার পুরু হয় এবং এদের মধ্যে ইন্স্যুলেশন দেয়া থাকে।
  • এয়ার গ্যাপ : পোল ও আর্মেচারের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গাকে এয়ার গ্যাপ বলে। এ ফাঁক যত বেশি হবে চুম্বক পথের বাঁধা ততো বেশি হবে।
  • ফিল্ড কয়েল : পোল কোরের উপর সুপার এনামেল কপারওয়্যার বসিয়ে ফিল্ড কয়েল তৈরি করা হয়। এটি জেনারেটরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x