মরুজ উদ্ভিদ হচ্ছে উদ্ভিদের একটি প্রজাতি, যারা অভিযোজন ক্ষমতার সাহায্যে মরুভূমির মতো শুষ্ক বালুকাময় বা আল্পস, আর্কটিক-এর মতো বরফ অথবা তুষর-আচ্ছাদিত অঞ্চল, যেখানে অতি সামান্য তরল জল মেলে, তেমন পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। মরু উদ্ভিদের জনপ্রিয় উদাহরণ, ক্যাকটাস, আনারস এবং কিছু জিমনোস্পার্ম উদ্ভিদ।

মরুজ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য
নিচে মরুজ উদ্ভিদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-

মরুজ উদ্ভিদ সাধারণত আকারে ছোট ও ঝোপযুক্ত হয়। এ উদ্ভিদের কোষ অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের হয়, কোষসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে তেমন ফাঁক থাকে না এবং এদের কোষ প্রাচীর পুরু হয়। এদের পাতার শিরা উপশিরা ঘন হয় এবং প্যালিসেড প্যারেনকাইমা কোষ অত্যন্ত দৃঢ় হয়। এদের স্টোমাটা বেশি থাকে এবং একটু গভীরে লুক্কায়িত থাকে। এদের মূল খুব গভীরে যায় অথবা মাটির কাছাকাছি অধিক জায়গা নিয়ে বিস্তৃত থাকে। পাতা সাধারণত ছোট, পুরু, গুচ্ছাকার বা কাটায় রূপান্তরিত থাকে। মরুজ উদ্ভিদের প্রস্বেদন চাপ অধিক থাকে, ফলে নেতিয়ে না পড়ার সহ্য শক্তি বেড়ে যায়। পাতা ও কাণ্ডের বহিঃত্বকে কিউটিকল থাকে। পাতা ও কাণ্ড অনেক সময় চ্যাপ্টা, রসালো ও সবুজ থাকে।

মরু উদ্ভিদ ও লোনা মাটির মধ্যে উদ্ভিদের পার্থক্য
মরু উদ্ভিদ ও লোনা মাটির মধ্যে উদ্ভিদের পার্থক্য নিম্নরূপঃ

মরু উদ্ভিদ

  • মুল সুগঠিত, প্রচুর শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত এবং মাটির গভীরে বিস্তৃত।
  • ঠেসমূল ও শ্বাসমূল উৎপন্ন হয় না।
  • কাণ্ড ফাইলোক্লেড বা ক্লাডোডে রূপান্তরিত হতে দেখা যায়।
  • পাতা রূপান্তরিত হতে কন্টকে পরিণত হতে দেখা যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে পাতা অনুপস্থিত।
  • মূল দিয়ে মাটি থেকে দ্রুত পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
  • বীজের মৃৎগত ও মৃৎভেদী অঙ্কুরোদগম ঘটে।

লোনা মাটির উদ্ভিদ

  • মূল সুগঠিত হলেও মাটির গভীরে বিস্তৃত থাকে না।
  • অনেক ক্ষেত্রে ঠেসমূল ও শ্বাসমূল উৎপন্ন হয়।
  • কাণ্ড ফাইলোক্লেড বা ক্লাডোডে রূপান্তরিত হতে দেখা যায় না।
  • পাতা কন্টকে রূপান্তরিত হতে দেখা যায় না, তবে কখনো কখনো শল্কে পরিণত হতে পারে।
  • মূল দিয়ে শ্লথ গতিতে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
  • বীজের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম ঘটে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x