b

সার্কিট ব্রেকার কি? এটি কিভাবে কাজ করে? (What is Circuit Breaker in Bengali/Bangla?)
তড়িৎ বর্তনী বা তড়িৎ যন্ত্রকে ওভারলোড বা শর্ট সার্কিটের কারণে ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য যে স্বয়ংক্রিয় তড়িৎ সুইচ ব্যবহার করা হয় তাকে সার্কিট ব্রেকার বলে।

যেভাবে কাজ করে : প্রথমে সার্কিট ব্রেকার বর্তনীর ত্রুটি উদঘাটন করে। অতঃপর সার্কিট ব্রেকারের ভিতরে যে কন্টাক্ট বা বর্তনী সংযোগ থাকে তা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর ফলে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং বর্তনীতে সংযুক্ত তড়িৎ যন্ত্রপাতি ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।

সার্কিট ব্রেকারের প্রকারভেদ (Types of Circuit Breaker)
সার্কিট ব্রেকার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ

নিম্ন ভোল্টেজের সার্কিট ব্রেকার : এ ধরনের সার্কিট ব্রেকারে বাড়ি-ঘরের ইলেক্ট্রিক যন্ত্রপাতি যেমন : এসি, টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদির সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়। ব্যবসা এবং শিল্পক্ষেত্রেও এর ব্যবহার রয়েছে।

ম্যাগনেটিক সার্কিট ব্রেকার : এ ধরনের সার্কিট ব্রেকারে ইলেক্ট্রোম্যাগনেট ব্যবহার করা হয়। যখন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটের সলিনয়েডের ভিতর দিয়ে পূর্ব নির্ধারিত কারেন্টের চেয়ে বেশি কারেন্ট প্রবাহিত হয় তখন বর্তনীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ।

মিডিয়াম ভোল্টেজ সার্কিট ব্রেকার : এ ধরনের সার্কিট ব্রেকার 1 – 72KV এ কাজ করে। এগুলো বিদ্যুতের সাবস্টেশনে ব্যবহার করা হয়।

হাইভোল্টেজ সার্কিট ব্রেকার : বৈদ্যুতিক পাওয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক এর সুরক্ষার জন্য এ ধরনের সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা হয়। 72.5 KV বা তার চেয়ে বেশি ভোল্টেজে এগুলো ব্যবহার করা হয়।

জিএফসিআই কি? এটি কেন ব্যবহার করা হয়? (What is GFCl in Bengali/Bangla?)
GFCI-এর পূর্ণরূপ হল Ground Fault Circuit Interrupters. এটি অত্যন্ত দ্রুত কার্যকর সার্কিট ব্রেকার যা এক সেকেন্ডের ৪০ ভাগের ১ ভাগ সময়ের মাঝে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ করতে পারে।

গ্রাউন্ড ফল্ট সার্কিট ইনটারাপ্টার কিভাবে কাজ করে?
গ্রাউন্ড ফল্ট সার্কিট ইন্টারপ্টার রেসিড্যুয়াল কারেন্ট সেন্সিং নীতিতে কাজ করে। এটি ক্রমাগত ফেজ এবং নিউট্রাল কারেন্ট মনিটরিং করে। যদি ফেজ এবং নিউট্রাল কারেন্ট সমান হয় তবে গ্রাউন্ড ফল্ট নেই, আউটলেটটিও সঠিকভাবে কাজ করে। কিন্তু যখন গ্রাউন্ড ফল্ট হয়, তখন ফেজ এবং নিউট্রাল কারেন্ট অসম হবে তখন GFCI সেটি সনাক্ত করবে এবং বিদ্যুৎ সাপ্লাইতে বাধা দেবে। তাই সেখানে বৈদ্যুতিক শকের ঝুঁকি দূর হবে।

ব্যবহার : যখন কোনো বৈদ্যুতিক সিস্টেমের ভূমি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তখন বিদ্যুৎ প্রবাহ ব্যবহারকারীর শরীরের ভেতর দিয়ে ভূমিতে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ধরনের ভূমি সংযোগ ত্রুটি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য GFCI ব্যবহার করা হয়।
GFCI শুধুমাত্র ভূমি ত্রুটির ক্ষেত্রেই কার্যকর। কেউ যদি পাওয়ার লাইনের দুটি তারের সংযোগের ফলে শক খায় তাহলে GFCI কোন কাজে আসেনা।
বর্তমানে GFCI পাবলিক ও প্রাইভেট বিল্ডিং এ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও বাথরুম, কিচেন রুম, অ্যাপ্লায়েন্স রুম, গ্যারেজ ইত্যাদিতে GFCI ব্যবহার করা হয়।

গ্রাউন্ড ফল্ট সার্কিট ইনটারাপ্টারের টেস্টিং এবং রিসেটিং প্রক্রিয়া

  •  একটি GFCI একটি রিসেট বোতাম এবং একটি টেস্ট বোতাম আছে।
  • রিসেট বোতামটি ত্রুটি সমাধানের পরে জিএফসিআইকে স্বাভাবিক অবস্থায় পুনরায় সেট করতে ব্যবহৃত হয়।
  • তাই যতক্ষণ না ত্রুটির সমাধান না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত GFCI রিসেট করা যাবে না।
  • টেস্ট বোতামটি GFCI এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়, এটি কাজ করছে কিনা।
  • ধরুন, আপনার GFCI 1 বছর ধরে কাজ করেনি, এখন আপনি জানেন না এটি ভাল অবস্থায় আছে নাকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
  •  সুতরাং, এই অবস্থায় টেস্ট বোতাম অনেক সাহায্য করে। আপনি শুধু টেস্ট বোতাম প্রেস করুন, যদি আপনার GFCI সার্কিটকে বাধা দেয় তবে এটি ভাল অবস্থায় আছে কিন্তু যদি এটি সার্কিটে বাধা না দেয় তবে এটি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছে।
  • টেস্ট বোতাম প্রেস করে মাসিক একবার GFCI চেক করা ভাল।
  • এছাড়াও, প্রতিবার আউটলেটের সাথে কোনো সরঞ্জাম বা যন্ত্রপাতি সংযোগ করার আগে আপনার পরীক্ষা বোতামটি পরীক্ষা করা উচিত।

ফিউজ কি? ফিউজ এর ব্যবহার। (What is Fuse in Bengali/Bangla?)

ফিউজ হলো ইলেক্ট্রিক-ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিট রক্ষাকারী একটা সাধারণ কিট হিসাবে ব্যবহার করা হয়। ফিউজ সার্কিটে বা ইলেক্ট্রিক সংযোগে সিরিজ অবস্থায় লাগনো থাকে। সার্কিট কোন কারণে শর্ট হলে তা সার্কিট কে রক্ষা করার জন্য কাজ করে, যেমন-যে কোন সার্কিট শর্ট হলে অনায়াসে ফিউজ কেটে যায়। এটা করা হয় চিকন তামার তার অথবা অ্যালুমিনিয়ামের তার দ্বারা, তবে ইলেক্ট্রিকের ফিউজে ১৪/৭৬ তারের মধ্যে থেকে ২/৩টা তার বের করে কাট-আউটে লাগিয়ে ফিউজ হিসাবে ব্যবহার করা যায়।আর ইলেক্ট্রনিক্সের ফিউজ বিভিন্ন মানের বিভন্ন অ্যাম্পিয়ারের হয়। তার গায়ে কত ভোল্ট কত অ্যাম্পিয়ার তা লিখা থাকে। সার্কিট ডায়াগ্রাম অনুসারে কিনে নিলে কাজ করতে পারবেন।

ফিউজের সুবিধা : ফিউজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটা অন্য প্রটেকটিভ ডিভাইসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহজ ও সস্তা।
ফিউজের অসুবিধা : ফিউজের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো একই ফিউজকে একবারের বেশি ব্যবহার করা যায় না এবং লাইন বন্ধ করে নতুন ফিউজ লাগাতে হয়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x