প্রেষণা কী? (What is Motivation in Bengali?)
ইংরেজি Motivation শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ প্রেষণা। Motivation শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Movere থেকে এসেছে যার অর্থ হলো ‘চালনা করা’। তাই প্রেষণার শাব্দিক অর্থ হলো কর্মীর কাজে গতিময়তা সৃষ্টি করা।

আভিধানিক অর্থে প্রেষণা হলো অন্তর্নিহিত শক্তিপ্রবাহ যা মানুষের কর্ম সম্পাদনে উৎসাহিত করে। কোনো একটি কাজ সুষ্ঠু ও কৃতিত্বের সাথে সম্পাদন করতে দৈহিক শক্তিই যথেষ্ট নয়, মানসিক শক্তি অর্থাৎ মনোবলও প্রয়োজন। আর কর্মীকে কার্য সম্পাদনে আগ্রহী করে তোলা ও মনোবল সৃষ্টি করাকে প্রেষণা বলে।

প্রেষণার স্তর কয়টি ও কী কী?
প্রেষণার স্তর প্রধানত ৩টি। যথা
১. অভাব বোধ (Need)
২. উদ্দেশ্যমূলক আচরণ এবং
৩. উদ্দেশ্য সাধন।

১. অভাব বোধ : প্রেষণা জৈবিক ও সামাজিক দু’প্রকারে হয়ে থাকে। মানুষের জৈবিক তাড়নায় যেসব প্রেষণার উদ্ভব ঘটে তাকে জৈবিক প্রেষণা বলে। যেমন- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, যৌনতা প্রভৃতি। সামাজিক প্রেষণা হচ্ছে কৃতিত্ব, প্রভাব প্রতিপত্তি, খ্যাতি, মর্যাদা ইত্যাদি। মানুষের সমাজ সভ্যতা, সাংস্কৃতিক জীবনের পরিপ্রেক্ষিতে একজন ব্যক্তির জীবনে এসব প্রেষণা সৃষ্টি হয়।

২. উদ্দেশ্যমূলক আচরণ : অভাব বোধ দূরীকরণের জন্য মানুষ সক্রিয়ভাবে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠে। প্রয়োজন মেটানোর জন্য কার্যে প্রবৃত্ত করে। এ প্রবৃত্তকরণকেই উদ্দেশ্যমূলক আচরণ বলে। যেমন • মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাড়িঘর তৈরি করে, শিশু ক্ষুধার্ত হলে খাবারের জন্য কান্নাকাটি করতে থাকে।

৩. উদ্দেশ্য সাধন : মানুষ ক্ষুধার্ত হলে তা নিবৃত্ত করার জন্য কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং এ লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টা চালায় শেষ পর্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কার্যটি সম্পাদিত করে। প্রেষণার জন্যই মানুষ নিজের শক্তিকে একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের অভিমুখে চালনা এবং করে থাকে।

প্রেষণা চক্র কী? (What is Motivational circle?)

প্রেষণা চক্র হচ্ছে এমন একটি সিস্টেম যাতে কর্মীরা উৎসাহিত হয়ে কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জনে ব্রতী হয় এবং এর মাধ্যমে তারা তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারে। চক্রের আকারে এ প্রক্রিয়া আবর্তিত হয় বলে একে প্রেষণা চক্র বলে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x