কম্পিউটার হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক জগতে বিজ্ঞানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। কম্পিউটার তার যান্ত্রিক সুবিধার মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সমস্ত জটিল কার্যের সহজ ও সুন্দর সমাধান খুব অল্প সময়ে দিয়ে থাকে। যেহেতু কমপিউটার একটা যন্ত্র এবং সর্বাধুনিক ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাংশই এর কার্যক্রমের প্রধান নিয়ন্ত্রক, তাই এর কাছ থেকে সঠিক ও সুন্দর কাজ, সেই সাথে এটির দীর্ঘআয়ু পেতে হলে আপনার শরীরের মত এরও নিয়মিত যত্ন নেয়া প্রয়ােজন। বাজারে বিভিন্ন আকৃতির ও স্তরের কম্পিউটার রয়েছে। তারমধ্যে মাইক্রো কমপিউটার বা পিসি (Desk Top PC) হচ্ছে সবচেয়ে বেশী সংখ্যায় সর্বস্তরে ব্যবহৃত কম্পিউটার। আপনি যদি এরূপ একটি পিসির ব্যবহারকারী হন তাহলে এটির যত্ন নিতে কি কি ব্যবস্থাদি গ্রহণ করবেন তা নিয়ে এই টিটোরিয়ালে আলোচনা করা হলো। আলােচনার সুবিধার্থে প্রথমে সমস্যা সৃষ্টিকারী কারণ ও পরবর্তীতে তার প্রতিকার নিয়ে আলােচনা করা হল।

সম্ভাব্য সমস্যা ও কারণ সমুহঃ
সমস্যা সৃষ্টিকারী কারণগুলােকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুসারে ৩টি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে-
১। পারিপার্শ্বিক কারণ
২। ব্যবহারকারীর অসাবধানতা বা ভুল ব্যবহার জনিত কারণ
৩। অন্যান্য কারণ

পারিপার্শ্বিক কারণঃ
পারিপার্শ্বিক কারনগুলো আমাদের চারপাশে বিরাজমান। এগুলাে আমাদের গােচরে বা অগােচরে সক্রিয়ভাবে কম্পিউটারকে নিয়ত ক্ষতি করে যাচ্ছে। এগুলােকে আবার কয়েকটা ভাগে ভাগ করা যেতে পারে–
(ক) তাপমাত্রাঃ কম্পিউটারের ক্ষতি করার ক্ষেত্রে তাপমাত্রা একটি উল্লেখযােগ্য কারণ। কম্পিউটার যখন কার্যত থাকে তখন এ যন্ত্রাংশগুলাের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে তা ক্রমাগত উত্তপ্ত হতে থাকে। অনেক সময় ধরে ব্যবহার চলতে থাকলে এক পর্যায়ে এ তাপ অনেক বেড়ে যায়, যা কম্পিউটারের বিভিন্ন সংবেদনশীল (sensetive) যন্ত্রাংশকে অকেজো করে দিতে পারে এবং অনেক মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এরূপ ঘটনায় এমনকি পুরাে কমপিউটারটিই অকেজো হয়ে যেতে পারে। এ সমস্যা যেমন অনেক অর্থদন্ড ঘটায় তেমনি চলমান কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজকেও নষ্ট করে দেয়। এছাড়া কম্পিউটারে ব্যবহৃত ফ্লপি ডিস্ক এর সাধারণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাপমাত্রার একটা সীমা মেনে চলতে হয় যা প্রতিটি ফ্লপি ডিস্কে কভারের গায়ে লিখা থাকে (১০° – ৫২° সেঃ বা ৫০° – ১২৬° ফাঃ)
(খ) আর্দ্রতাঃ বায়ুর আর্দ্রতা বেশী হলে বায়ুস্থ জলীয় বাষ্প বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাংশ, চুম্বকীয় ডিস্ক ইত্যাদির ওপর জমে, যা ধাতব যন্ত্রাংশে মরিচা ধরায়। এছাড়া বায়ুস্থ ধুলিকণা এর সাথে মিলে যন্ত্রাংশের ওপরে একটা আস্তরণ সৃষ্টি করে। এ আস্তরণ বিভিন্ন বর্তনীতে বিদ্যুৎ চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে বা বিপথগামী করতে পারে। জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি পরিবেশকে স্যাতসেতে করে দেয় যা ডিস্কসহ বিভি যন্ত্রাংশে fungus বা ছত্রাক জন্ম দিয়ে এদের কার্যকারীতা কমিয়ে দেয়।
(গ) মরিচাঃ বায়ুতে জলীয় বাষ্পের আধিক্য কমপিউটারের বিভিন্ন ধাতব যন্ত্রাংশে মরিচা ধরায়। এ মরিচা ঐ যন্ত্রাংশটির কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে, বিদ্যুৎ প্রবাহকে বিপথগামী করতে পারে, এমনকি শর্ট সার্কিট (short circuit) করে কমপিউটারকে অকেজো করে দিতে পারে।
(ঘ) অতিসুক্ষ্ম আনুবীক্ষণিক ধূলিকণাঃ ধুলিকণা কম্পিউটারের জন্যে সবচাইতে ক্ষতিকর উপাদান। এ ধুলিকণা কী-বাের্ডের মধ্যে জমে “কী” গুলাে জাম করে দেয় ফলে কী-বাের্ড ঠিকমত কাজ করেনা। এছাড়া এর অভ্যন্তরীন ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাংশেরও ক্ষতি করে। সব চাইতে বেশী ক্ষতি করে ফ্লপি ডিস্কের। ধুলিকণা জমে থাকা অবস্থায় কোন ডিস্ক কম্পিউটারকে দিয়ে পড়াতে গেলে তা ডিস্ক ড্রাইভের হেড সংস্পর্শে এসে ঘূর্ণাবস্থায় ডিস্কের সাথে এর ঘর্ষণ লাগে ফলে ডিস্কের ট্রাক কেটে দেয়। এতে করে ঐ ট্রাক বা ট্রাকসমুহে সংরক্ষিত তথ্য তাে নষ্ট হয়ই উপরন্তু ভবিষ্যতের জন্য ঐ ট্র্যাকগুলো অকেজো হয়ে যায়। শুধু ডিস্কই নয় কখনও কখনও এই ধুলিকণা ড্রাইভ হেডকেও নষ্ট করে দিতে পারে।
(ঙ) কার্বন কণাঃ কম্পিউটার কক্ষের আশপাশে বা এলাকায় কোন কলকারখানা বা ধোয়ার উৎস থাকলে তা থেকে আগত কার্বন কণা কমপিউটারের কী-বাের্ড এবং অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে। কার্বন নিজেই কোন বর্তনীতে বিদ্যুৎ পরিবাহক হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে স্বভাবতইঃ কমপিউটারের কী-বাের্ড এবং অভ্যন্তরীন ইলেনিক বর্তনীর সূক্ষ্ম IC বা chip এর সাধারণ বিদ্যুৎ বা ইলেক্ট্রনিক চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। সর্বোপরি শর্ট সার্কিট সৃষ্টি করে কোন iC বা chip কেটে যাওয়ার কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে।

২। ব্যবহারে অসাবধানতা বা ভুল ব্যবহারঃ
কম্পিউটার আসলে নিজে থেকে কখনও কোন কাজ করে দেয় না। আমাদের কোন কাজ কম্পিউটারকে দিয়ে করাতে হলে কাজটি কি দিয়ে কেমন করে করতে হবে তার পুরােটাই কমপিউটারকে বলে দিতে হয়। কম্পিউটারের কাছ থেকে এরূপ কোন কাজ দ্রুত, সুন্দর ও সঠিক ভাবে পেতে হলে কমপিউটারের ব্যবহারকারী বা পরিচালনাকারী ব্যক্তির নির্দেশ বা ব্যবহারের ধরণের ওপরই তা নির্ভর করে। এই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অসাবধানতা বা ভুল ব্যবহার শুধু তথ্য প্রক্রিয়াকরণে ভুল ফলই দিবে না কখনও তা কমপিউটার যন্ত্রটাকেও ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট করে দিতে পারে। এই ধরনের কাজ গুলাের মধ্যে রয়েছে-

  • হার্ড ডিস্ক যুক্ত কম্পিউটারের সিপিইতে কোন প্রকার ঝাকুনী লাগা যা হার্ড ডিস্ককে ক্ষতি করতে পারে এবং ডিস্কে রক্ষিত তথ্যকেও স্বাভাবিক ভাবেই নষ্ট করে দিতে পারে।
  • ফ্লপি ডিস্ক ড্রাইভে ডিস্ক প্রবেশ করানাের সময় তা সঠিক ভাবে প্রবেশ না করিয়ে উল্টো ভাবে প্রবেশ করানাে বা কোথাও আটকে গেলে জোর করে প্রবেশ করানাের চেষ্টা শুধু ডিম্বকেই কতি করে না ড্রাইভ হেডকেও ক্ষতি করতে পারে।
  • সি পি ইউ, মনিটর ও প্রিন্টারসহ যাবতীয় যন্ত্রের বিদ্যুৎ ও পারস্পরিক সহযােগকারী প্লাগ সঠিক ভাবে যথাস্থানে সংযােগ করা না হলে তা থেকে মারাত্মক ক্ষতির সৃষ্টি হতে পারে।

কম্পিউটারে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ বা উপাদান যেমন মাউস, ডিস্ক ইত্যাদি যত্র তত্র ফেলে রাখলে তাতে ধুলাবালি যুক্ত হতে পারে, যা ঐ মাউস বা ডিস্ক সহ কম্পিউটারের ড্রাইভ হেডকেও ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে।কম্পিউটারের কী-বাের্ড বা কম্পিউটারের আশ পার্শ্বে কোথাও ধুমপান করা যা থেকে সিগারেটের দগ্বাংশ এসে পড়তে পারে, চা পান করা বা চা সমেত কাপ রাখা যা অসাবধানতাবশতঃ কী-বাের্ড বা কম্পিউটারের ওপর ঢেলে পড়তে পারে ইত্যাদি কমপিউটারের জন্য ক্ষতিকর। খুব জোরে শব্দ করে কী-বাের্ডের কী আঘাত করা খুবই শ্রুতিকটু এবং তা কী-বাের্ডের কী গুলাের নীচের কার্বন পাত বা স্প্রিং বা বর্তনীর ক্ষতি করতে পারে৷ কখনও কোন কারণে কম্পিউটারের সুইচ বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গেই তা আবার চালিয়ে দেন, এতে করে বিদ্যুৎ প্রবাহের হঠাৎ উত্থান-পতন (fluctuation) মনিটরের পিকচার টিউব নষ্ট করে দিতে পারে বা কোন মুল্যবান আইসি কেটে দিতে পারে।

অন্যান্য কারণঃ উপরোল্লেখিত কারণগুলাে ছাড়াও আরও কিছু অদৃশ্য কারণ রয়েছে, যা কম্পিউটারকে বা এতে সংরক্ষিত তথ্যের ক্ষতি করতে পারে। এদের মধ্যে রয়েছে-

  • কম্পিউটারে কোন ড্রাইসেল ব্যাটারী ব্যবহার করা থাকলে একটা সময়ান্তে তা নিঃশেষ হয়ে যায় (যা কম্পিউটারের ঘড়ির তারিখ ও সময় শ্লখ করে দেয়) সে অবস্থায় এটি যথা সময়ে প্রতিস্থাপন না করলে এক সময় তা গলে গিয়ে ব্যাটারী সংযােগ ব্যবস্থাকে বিকল করে দিতে পারে।
  • বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিমানে উত্থান-পতন, বিশেষ করে ভােল্টজ বেড়ে গেলে তা কম্পিউটারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
সমস্যা থেকে উত্তরণ ও প্রতিকার
পিসির যাবতীয় সমস্যা থেকে উত্তরণ ও প্রতিকার পাবার সম্ভাব্য উপায়সমূহকে ৩টি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে—
১ । স্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষণ
২ । প্রতিরক্ষামূলক রক্ষণাবেক্ষণ
৩ । কম্পিউটারের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ
স্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষন
(ক) ধুলিকণা পরিষ্কারকরণঃ প্রতিদিনই কম্পিউটারের ওপর প্রচুর ধুলাবালি জমে, এগুলাে কম্পিউটার ব্যবহারের শুরুতেই একটা নরম কাপড় দিয়ে মুছে নিন। এছাড়া অভ্যন্তরস্থ ধুলিকণা ও কম্পিউটারের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রের বাক্সে (transformer box) ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক পাখা অন্তর্মুখী বায়ু টানায় তা অনেক ধুলিকণা টেনে নেয়। এসব ধুলিকণা প্রতি তিনমাসে একবার পরিষ্কার করুন। পরিষ্কারের জন্য চৌম্বকীয় পদার্থ বিহীন কোন ব্রাশ বা ক্লিনার ব্যবহার করুন। পরিষ্কার করার সময়ে যেন চিপ বা বাের্ডের গায়ে হাতের স্পর্শ না লাগে সেদিকে সতর্ক থাকুন।
(খ) সংযােগ পুনঃ স্থাপনঃ প্রতিমাসে অন্ততঃ একবার কম্পিউটারের বিভিন্ন সংযােগগুলাে পরীক্ষা করে নিন। বিশেষ করে ধুলিকণা পরিস্কার করার পর অনেক সময় সংযােগ ঢিলা হয়ে যায় সেগুলাে শক্ত করে লাগিয়ে দিন, ক্ষেত্র বিশেষে খুলে পুনরায় বসিয়ে দিন।
(গ) শীতাতপ ও বায়ু নিয়ন্ত্রণঃ কম্পিউটার কক্ষে অতিরিক্ত বা অনাকাংখিত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও ধুলিকণা প্রবেশের যাবতীয় পথ বন্ধ করে দিন। কম্পিউটার কক্ষে বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবহার ধুলাে-বালি উড়তে সাহায্য করে ফলে এটি না থাকাই ভাল। সম্ভব হলে মেঝেতে কার্পেট বিছিয়ে দিলে ভাল হয় এবং একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রক (air conditioner) ব্যবহার সর্বোত্তম। কম্পিউটার কক্ষে জুতা পরে প্রবেশ থেকে বিরত থাকুন।
(ঘ) বৈদ্যুতিক ভোটেজ নিয়ন্ত্রণঃ বৈদ্যুতিক ভোল্টেজের উত্থান পতন থেকে কম্পিউটারকে রক্ষা করতে বিদ্যুৎ সংযোেগ পথে একটা ভােল্টেজ ষ্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন এবং আপনার কমপিউটারকে অবশ্যই সঠিকভাবে ভূমির সাথে সংযুক্ত (carthing) করুন।
(ঙ) ড্রাইড হেড পরিষ্কারকরণঃ বিভিন্ন ফ্লপি ডিস্ক ব্যবহারের কারণে ড্রইভ হেড-এ অনেক সময় ধুলিকণা এবং ডিস্ক এর ক্ষয়ীভূত অংশ লেগে থাকে। এরূপ ময়লাযুক্ত হেড, ডিস্ক থেকে তথ্য পড়ার ক্ষেত্রে ক্রটির (error) সম্ভাবনা বাড়ায়। এরূপ ক্ষেত্রে কোন ভাল হেড ক্লিনার দিয়ে ড্রাইভ হেড পরিষ্কার করে নিন। কোন ত্রুটি কখনও দেখা না গেলেও বছরে অন্ততঃ একবার সম্পূর্ণরূপে হেড পরিষ্কার করে নেয়া ভাল।
(চ) ডিস্কের ত্রুটি নির্ণয়করণঃ ব্যবহার জনিত বা যান্ত্রিক কারণে অনেক সময় ডিস্কে বিভিন্ন রকমের ত্রুটি দেখা দেয়, যেমন disk error, read error, file allocation error, cluster chain, bad sector ইত্যাদি। এরূপ ত্রুটির বেশীর ভাগই বিভিন্ন ইউটিলিটি সফটওয়্যার দ্বারা চিহ্নিত ও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এই জাতীয় সফটওয়্যারকে ডিস্ক ডায়াগনষ্টিট সফটওয়্যার বলা হয়। নরটন ডিস্ক ডক্টর, পিসি টুলস, ইউটিলিটি ম্যাক ইত্যাদি এ জাতীয় সফটওয়্যার। এ ছাড়া ডস-এর CHKDSK কমান্ড ব্যবহার করেও এসব সমস্যা চিহ্নিত করা যায়। ইউটিলিটি সফটওয়্যার দিয়ে নিয়মিত ভাবে এরূপ সমস্যা চিহ্নিত ও পুনরুদ্ধার করুন। তিন মাসে অন্তত একবার এ কাজটি করুন।
(ছ) যথা নিয়মে ফ্লপি ডিস্ক ব্যবহারঃ ফ্লপি ডিস্ক ব্যবহারে ও সংরক্ষণে যত্নশীল হউন। ড্রাইভে ডিস্ক প্রবেশ করানাের সময়ে সতর্ক থাকুন, উল্টোভাবে যেন প্রবেশ করানাে না হয়। কোথাও আটকিয়ে গেলে বের করে নিয়ে পুনরায় ধীরে ধীরে প্রবেশ করান। ডিস্কের খােলা জায়গায় যেন হাত বা আঙ্গুল না লাগে সেদিকে সতর্ক থাকুন।
(জ) কভার ব্যবহারঃ কমপিউটার ব্যবহার শেষে প্রতিদিন এটিকে ধুলােমুক্ত রাখতে একটি কভার দিয়ে ঢেকে রাখুন। কভার না থাকলে একটি পাতলা কাপড় দিয়ে কভার বানিয়ে নিয়ে ঢেকে রাখুন।
(ঝ) স্প্রে জাতীয় কিছু ব্যবহার না করাঃ এরােসল বা হেয়ার স্প্রে জাতীয় কোন কিছু কমপিউটার কক্ষে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কেননা এসব স্প্রে-তে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ কমপিউটারের সার্কিটের ক্ষতি করে।
(ঞ) চুম্বক ক্ষেত্র থেকে দূরে রাখাঃ চুম্বক ক্ষেত্র তৈরী করে এরুপ কোন যন্ত্রপাতি যেমন- রেডিও বা ক্যাসেট প্লেয়ারের স্পীকার বা সাউন্ডবক্স , টেলিফোন সেট ইত্যাদি কমপিউটার এবং ডিস্ক থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখুন।

২। প্রতিরক্ষামুলক রক্ষণাবেক্ষন (Preventive Maintenance):
(ক) প্রোগ্রাম ও তথ্য নিরাপদ সংরক্ষণঃ ব্যাক-আপ (backup) হচ্ছে তথ্য বা প্রোগ্রামকে একটা বিশেষ ব্যবস্থায় নিরাপদে কোন ফ্লপি ডিস্কে সংরক্ষণ। এটি ডস দিয়েও করা যায় অথবা কোন ডস ইউটিলিটি (যেমন রটন ইউটিলিটি, পিসি টুলস, ইত্যাদি) দিয়েও করা যায়। প্রথমে সমগ্র হার্ড ডিস্কের একটা ব্যাকআপ করে কমপিউটার থেকে দুরে সযত্নে সরিয়ে রাখুন। পরে একটা নির্দিষ্ট সময়ান্তে বা প্রয়ােজন মত কেবল সেসব ফইলের ব্যাকআপ করুন যেগুলাে পূর্ববর্তী ব্যাক-আপের পরে সংরক্ষিত বা সংশােষিত হয়েছে। প্রতিটি ব্যাক আপের বেলায়ই ফ্লপি ডিস্কের গায়ে লেবেলে ব্যাক-আপের তারিখ ও বিষয় (contents) লিখে রাখুন (যেমন- সিষ্টেম ব্যাকআপ বা ‘ডাটা ব্যাকআপ’ ইত্যাদি)। সেইসাথে ব্যাকআপ ইউটিলিটি সফটওয়্যার এর নাম এবং ভার্সন (যেমন – এমএস-ডস ভার্সন ৪.০১ বা পিসি টুলস্ ভার্সন ৫.১ ইত্যাদি) লিখে রাখুন। এমনিভাবে যেসব ডিস্ক থেকে তথ্য RESTORE করা হয় সেগুলােকে ব্যবহারের তারিখ সহ আলাদাভাবে সরেক্ষণ করুন।

(খ) ক্ষতিকর প্রােগ্রাম থেকে রক্ষাকরনঃ কম্পিউটার ভাইরাস কপিউটার ও তথ্যের কি রকম ক্ষতি করতে পারে তা পূর্বেই আলােচিত হয়েছে। সুতরাং ফ্লপি ডিস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক ভাবে তা করুন। কখনও ভাইরাস আক্রান্ত কোন ডিস্ক থেকে কোন প্রোগ্রাম কম্পিউটারকে দিয়ে পড়বেন না এবং হার্ডডিস্কে কপি করবেন না। এসব ভাইরাস সনাক্ত করা ও মেরে ফেলা বা বিতাড়িত করার জন্যেও বিজ্ঞ প্রােগ্রামারগণ বিভিন্ন প্রােগ্রাম লিখেছন। এরূপ প্রােগ্রাম সংগ্রহ করুন। এ প্রােগ্রামের তিনটি প্রধান ভূমিকা রয়েছে যথা-

(১) ভাইরাস চিহ্নিত করা,
(২) ভাইরাস বিতারিত করা, ও
(৩) পূর্ব থেকেই টিকা দিয়ে ভাইরাস থেকে আত্মরক্ষা

এসব প্রােগ্রাম সংগ্রহ করে প্রথমে আপনার সমস্ত সিষ্টেম সহ হার্ড ডিস্কে ভাইরাস প্রতিষেধক টিকা দিয়ে দিন। পরে প্রয়ােজনে সবগুলাে viral treatrient file হার্ড ডিস্কে কপি করে নিন। AUTOEXEC.BAT ফাইল IMMUNE কমান্ড ব্যবহার করে মেমােরীকে প্রতিরােধ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই হার্ড ডিস্কে বা ডস ডিস্কে IMMUNE প্রােগ্রামটি কপি করা থাকতে হবে। এরপর আপনার সংগ্রহের সমস্ত ফ্লপি ডিস্ককে স্ক্যান করে ভাইরাস পাওয়া গেলে তা বিতাড়িত করুন এবং নতুন বা অপরিচিত কোন ডিস্ক ব্যবহারের পূর্বে সেটিও স্ক্যান করে নিশ্চিত হয়ে নিন।

৩। কম্পিউটারের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণঃ হার্ড ডিস্কে রক্ষিত অপ্রয়ােজনীয় ফাইল বা ফাইলসমূহ মুছে ফেলুন। রুট ডাইরেক্টরী-তে রক্ষিত ফাইলের সংখ্যা বেশী হয়ে গেলে ফাইলের ধরণ ও কার্যকারিতা অনুসারে বিভিন্ন সাব-ডাইরেক্টরী তৈরী করে সেখানে রাখুন। কেননা একটা ডাইরেক্টরীতে ফাইল সংখ্যা অনেক হলে ফাইল খোজার সময় কম্পিউটারের বেশ ঝামেলা হয় এবং কাজের গতি শ্লথ হয়ে যায়। প্রয়ােজনে রুট ডাইরেক্টরীতে একটা AUTOEXEC.BAT ফাইল তৈরী করে সেখানে ব্যবহৃত সাব-ডাইরেক্টরীগুলাে থেকে বহুল ব্যবহৃত/প্রয়োজনীয় গুলাের মধ্যে সহজে আন্ত-ডাইরেক্টরী কমাণ্ড প্রয়ােগের লক্ষ্যে একটা PATH কমান্ডে সমস্ত Path ঘােষণা করে রাখা যেতে পারে। এতে করে যে কোন সাব-ডাইরেক্টরীতে বসে যে কোন ডস কমাণ্ড বা সাব ডাইরেক্টরীতে রক্ষিত সিস্টেম কমান্ড প্রয়ােগ করা যাবে, এক্ষেত্রে অবশ্যই বিভিন্ন সিষ্টেমগুলাে সঠিকভাবে install করা থাকতে হবে। সব শেষে হার্ড ডিস্কটি COMPRESS করে নিন। COMPRESS হচ্ছে এমন একটা প্রক্রিয়া যা ডিস্কে এলােপাতাড়িভাবে সংরক্ষিত তথ্য সমূহের মধ্য থেকে প্রতিটি ফাইলের ছড়িয়ে থাকা তথ্যকে এক জায়গায় এনে সাজিয়ে দেয়।

উপসংহারঃ কার্যকারিতার দিক থেকে জটিল সমস্যার সমাধানকারী কমপিউটারকে-আসলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কেননা ব্যবহারকারীর নির্দেশেই এর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে একজন ব্যবহারকারীকে অবশ্যই এর ব্যবহারজনিত নিয়মাবলী ভালভাবে জেনে তবে ব্যবহার করা উচিত। কোন জিনিসের কার্যকারিতা এবং দীর্ঘায়ু নির্ভর করে তার সঠিক ব্যবহার এবং যত্নের ওপর। সুতরাং আলােচিত বিষয় সেদিক থেকে আপনার কম্পিউটারের যত্ন নিতে এবং দীর্ঘ দিন তা নিঝঞ্জাট ভাবে ব্যবহারে আপনাকে সাহায্য করবে বলে আমার বিশ্বাস।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x