কম্পিউটার ভাইরাস এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই তথ্য ও উপাত্ত নষ্ট করে এবং যা নিজে নিজেই কপি হতে পারে। প্রখ্যাত গবেষক ফ্রেড কোহেন কম্পিউটারের এ ক্ষতিকারক প্রোগ্রামের নাম দেন VIRUS। VIRUS শব্দের পূর্ণরূপ হলো Vital Information and Resources Under Siege। সুতরাং কম্পিউটার ভাইরাস এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাহ (Self Executed), সংক্রমণ (Self Extracted) ও নিজস্ব সংখ্যাবৃদ্ধি (Self Replicated) করে কম্পিউটারকে অস্বাভাবিক, অগ্রহণযোগ্য এবং অস্বস্তিদায়ক কাজ করতে বাধ্য করে। কখনও কখনও প্রোগ্রাম বা ডেটা ফাইল নষ্ট করে ফেলে, কম্পিউটারকে বুট হতে বিরত রাখে, ডিস্ককে নষ্ট করে ফেলে।

কম্পিউটার ভাইরাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:

  • এটি নিজেই নিজের অনুরূপ তৈরি করতে পারে।
  • এটি সব সময় কোন ফাইল বা প্রোগ্রামের সাথে চলাচল করতে পারে।
কম্পিউটার ভাইরাসের ইতিহাস (The History of Computer Virus)
১৯৭১ সালে বব থমাস নিজে থেকেই ছড়াতে পারে এরূপ একটি পরীক্ষামূলক কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি করেন- যার নাম ছিল ক্রিপার ভাইরাস (Creeper Virus)। ১৯৯২ সালে মাইকেল অ্যাঞ্জেলা ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। লাখ লাখ কম্পিউটার এতে অচল হয়ে পড়ে। ১৯৯৯ সালে ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার CIH বা চেরনোবিল নামক ভাইরাসের আক্রমণে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। ২০০৮ সালে জনপ্রিয় সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুক এবং মাইস্পেস এর ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে Koobface কম্পিউটার ওয়ার্ম ছাড়া হয়। একই বছরের ২১ নভেম্বর কম্পিউটার ওয়ার্ম কনফিকার (Conficker) ৯ থেকে ১৫ মিলিয়ন মাইক্রোসফট সার্ভার সিস্টেমকে আক্রান্ত করে।

কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ
কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়:
১. কোনো প্রোগ্রাম চালু হতে বেশি সময় নেয়।
২. হার্ডডিস্কের পার্টিশন নষ্ট করে ফেলে।
৩. ডিস্কের ভলিউমের নাম পরিবর্তন হয়।
৪. হার্ডডিস্কে Bad sectors দেখায়।
৫. প্রিন্টের গতি কমে যায়।
৬. EXE ফাইলের আকার পরিবর্তন হয়।
৭. হঠাৎ কম্পিউটার বন্ধ হয়ে যায়।
৮. কাজের গতি অস্বাভাবিক কমে যায়।
৯. ফাইল, তারিখ ও সময়ের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন।
উপরের এই লক্ষণ দেখা দিলে মনে করা যায় যে, কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

ভাইরাস সাধারণত যা যা ক্ষতি করতে পারে
কোন কম্পিউটার বা আইসিটি যন্ত্র ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে নিচে দেওয়া ক্ষতি হতে পারে–
১। কম্পিউটারে সেভ করে রাখা কোন ফাইল মুছে দিতে পারে।
২। ফাইল বা ডাটা করাপ্ট বা নষ্ট করে দিতে পারে।
৩। মনিটরের রেজুলেশন চেঞ্জ বা পরিবর্তন হতে পারে।
৪। সিস্টেম এর সেটিং চেঞ্জ বা পরিবর্তন করতে পারে।

ভাইরাস প্রতিকারের উপায়
কম্পিউটার বা আইসিটি যন্ত্রের প্রতিষেধক হল এন্টিভাইরাস। সাধারণত একটি ভাল মানের এন্টিভাইরাস কয়েকশ ভাইরাস নির্মূল করতে পারে। বর্তমান সময়ের এন্টিভাইরাসগুলাে ভাইরাস আক্রমণ করার আগেই তা ধ্বংস করে কিংবা ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে দেয়। ভাইরাসের হাত হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য আজকাল ফ্রিতে ইন্টারনেট থেকে কিছু কিছু এন্টিভাইরাস সফ্টওয়্যার ডাউনলােড এবং ইন্সটল কারা যায়। নিচে এ ধরনের কিছু প্রােগ্রাম এর নাম দেয়া হলাে–
১। এভিজি এন্টিভাইরাস সফ্টওয়্যার
২। এভিরা এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার
৩। অ্যাভাস্ট এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার
৪। নরটন এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার; ইত্যাদি।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x