b

বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা, সাময়িকী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্যাটালগ, বার্ষিক প্রতিবেদন ইত্যাদি কাগজে মুদ্রণ করার জন্য অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হয়। মুদ্রণযন্ত্রে ছাপানোর পূর্বে পাবলিশিং এর অনেক কাজ করতে হয়। পূর্বে প্রচলিত ঐসব পদ্ধতি ছিল সময়সাপেক্ষ, শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল। কিন্তু বর্তমানে ডেস্কের উপর রাখা যায় এমন কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রকাশনার প্রাক-মুদ্রণের প্রায় সব কাজ করা যায়। এতে করে সময়, শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় হয় এবং কাজ হয় নিখুঁত ও ঝকঝকে। কম্পিউটার ব্যবহার করে প্রাক মুদ্রণের কাজকে ডেস্কটপ পাবলিশিং বা ডিটিপি বলা হয়।

ডেস্কটপ পাবলিশিং এর ধাপসমূহ
বর্তমানে ছাপানোর সব কাজ অফসেট মেশিনেই করা হয়। কারণ এ ধরনের মুদ্রণযন্ত্রে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে বিভিন্ন রঙের ব্যবহার করে ছাপানো যায় এবং ব্যবহৃত প্লেট থেকে পুনরায় ছাপানো যায়। অফসেট মেশিনে ছাপানোর জন্য প্লেট তৈরি করার জন্য পেস্টিং এর পূর্বের ধাপসমূহ ডেস্কের উপরে রাখা যায় এমন মাইক্রোকম্পিউটার, আনুষঙ্গিক অন্যান্য যন্ত্রপাতি যেমনঃ স্ক্যানার, লেজার প্রিন্টার এবং ডেস্কটপে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ব্যবহার করেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করা যায়। চূড়ান্ত মুদ্রণের পূর্ববর্তী বিভিন্ন ধাপসমূহ সম্পন্ন করতে যেখানে ভিন্ন ভিন্ন কর্মে দক্ষ একাধিক পেশাজীবীর প্রয়োজন হতো ডেস্কটপ পাবলিশিং-এ সেখানে মাত্র একজন দক্ষ অপারেটরই এসব কাজ অনায়াসে করতে পারেন। ক্যামেরা দিয়ে ফিল্ম না বের করে, লেজার প্রিন্টারে ট্রেসিং পেপারে প্রিন্ট নিয়ে প্লেট তৈরি করা যায়। রঙিন ছাপানোর জন্য পূর্বে দীর্ঘ সময় ধরে ম্যানুয়াল্লি কালার সেপারেশন করে মূল চার রঙের জন্য চারটি পজেটিভ তৈরি করা হতো। কিন্তু ডেস্কটপ পাবলিশিং এ স্ক্যানারের সাহায্যে ছবিকে কম্পিউটারে স্ক্যান করে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার; যেমনঃ ফটোশপ, কোরেল-ড্র, কোয়ার্ক এক্সপ্রেস, ইলাস্ট্রেটর ইত্যাদি ব্যবহার করে চূড়ান্ত আউটপুট অত্যন্ত কম সময়ে বিশুদ্ধভাবে ইমেজ সেটারের সাহায্যে আউটপুট বের করা যায়। ডেস্কটপ পাবলিশিং এ যদিও প্রায় সব কাজ একজনে একই স্থানে বসে করতে পারেন কিন্তু এতেও অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

ডিপিটি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার
১. কম্পিউটার
২. মাউস
৩. মনিটর
৪. প্রিন্টার
৫. স্ক্যানার
৬. ডিজিটাল ক্যামেরা

ডিটিপি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার

  1. MS Word, Word (Open Office): টেক্সট লেখা।
  2. Adobe Photoshop, Photopaint, (GIMP Open Office): ইমেজ এডিটিং।
  3. Adobe in Design, Adobe Illustrator, CorelDraw: ড্রয়িং করা।
  4. MS publisher, QuarkExpress: পেজ ফরমেট করা।
ডিটিপি-তে ব্যবহৃত বিভিন্ন মৌলিক কৌশল
 
পেজ সেটআপঃ ডিটিপি প্রস্তুতিতে প্রথম পদক্ষেপ হলো পৃষ্ঠার সাইজ এবং এটি কি আাড়াআড়ি নাকি খাড়াভাবে উপস্থাপিত হবে তা নির্ধারণ করে। পেজে বিষয়বস্তু কলাম আকারে উপস্থাপিত হবে কিনা, হলে কতটি কলাম থাকবে, কলামের মধ্যকার দূরত্ব কত হবে ইত্যাদি নির্ধারণ করতে হয়।
টেক্সট টাইপ করাঃ বেশিরভাগ ডিটিপি প্যাকেজগুলো এদের মধ্যে সরাসরি টাইপ করার সুযোগ দেয়। কিন্তু ওয়ার্ড প্রসেসর প্রোগ্রামে টাইপ করা সহজ এবং পরবর্তীতে টেক্সট ডিটিপি প্যাকেজ ইমপোর্ট করা যায়। ওয়ার্ড প্রসেসিং প্রোগ্রামে স্পেল চেক করা, শব্দ ভান্ডার ব্যবহার করা এবং দ্রুত টাইপ করা যায়। তাই টাইপ করার জন্য ওয়ার্ড প্রসেসিং প্রোগ্রাম ব্যবহার করা উত্তম।
টেক্সট স্থাপন করাঃ ডিটিপি প্যাকেজের ডকুমেন্টে ইমপোর্ট করা টেক্সট কোথায় স্থাপন করতে হবে তা নির্ধারণ করতে হয়। টেক্সটগুলোকে সুন্দরভাবে অন্যান্য বিষয়ের সাথে এডজাস্ট করে রাখতে হয়।
গ্রাফিক্স স্থাপন করাঃ ডিটিপি প্যাকেজের ডকুমেন্টে ইমপোর্ট করা গ্রাফিক্স কোথায় স্থাপন করতে হবে তা নির্ধারণ করতে হয়। গ্রাফিক্সের চতুষ্পার্শ্বে কিছু ফাঁকা রাখা যায় যাতে লেখা গ্রাফিক্সের উপর চলে না আসে।
গ্রাফিক্সের সাইজ নির্ধারণ করা এবং কাটাঃ গ্রাফিক্সের অপ্রয়োজনীয় অংশকে বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় অংশটুকুকে ছোট বড় করে স্থাপন করা যায়। যেমন- কোন গ্রুপ ছবিকে স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করে একজনের ছবিকে রাখার জন্য অন্যান্যদের অংশটুকু কেটে প্রয়োজন মতো সাইজ নির্ধারণ করে ছবিটি স্থাপন করা যায়।
লাইন এবং বক্স আঁকাঃ ডিটিপি প্যাকেজ বিভিন্ন ধরনের লাইন এবং বক্স আঁকা যায়। লেখাকে বক্সের ভিতরে শেড দিয়ে উপস্থাপন করা যায়। বিভিন্ন স্টাইলের লাইন এবং বর্ডার দেয়া যায়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x