মেমোরি রেসিডেন্ট ভাইরাসঃ মেমোরি রেসিডেন্ট ভাইরাস হলো সেসব ভাইরাস যেগুলো কার্যকর হবার পর এবং এর হোস্ট প্রোগ্রামটি বন্ধ হবার পরও মেমোরিতে অবস্থান করে। অপরদিকে নন-মেমোরি রেসিডেন্ট ভাইরাসগুলোই কেবল আক্রান্ত এপ্লিকেশনগুলো চালানোর সময় কার্যকর হয়। মেমোরি রেসিডেন্ট ভাইরাসগুলো মেমোরির স্থান দখল করে এবং এদের কার্যক্রম চালনায় কম্পিউটারের গতি কম হয়ে পড়ে।

ফাইল ভাইরাসঃ ফাইল ভাইরাস এক্সিকিউটেবল প্রোগ্রাম ফাইলসমূহকে আক্রান্ত করে। এটিই সচরাচর কিন্তু সব সময় নয়। com এবং exe এক্সটেনশন যুক্ত ফাইলসমূহকেই আক্রান্ত করে বেশি। আক্রান্ত প্রোগ্রাম রান করলে প্রথমে ভাইরাস রান করা অরিজিনাল প্রোগ্রামকে নিয়ন্ত্রণ করে। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর ভাইরাস এর প্রতিলিপি তৈরি করার জন্য এর কোডকে অন্য ফাইল বা ডিস্কে কপি করে।

কমপেনিয়ন ভাইরাসঃ যদি ডিস্কে একই নামে com এবং exe ফাইল থাকে তাহলে ফাইলের নাম (এক্সটেনশন ছাড়া) টাইপ করে চালুর নির্দেশ দিলে DOS ফাইলকে রান করবে। কমপেনিয়ন ভাইরাস এ কাণ্ড ঘটায়। যখন ভাইরাস তার কাজ সম্পন্ন করে যা সে চেয়েছিল (অন্য ফাইলের জন্য অন্য Companion তৈরি করে) তখন exe প্রোগ্রাম স্বাভাবিকভাবে রান করে। কিছু সফল কমপেনিয়ন ভাইরাস আছে কিন্তু বেশি নয়।

বুট সেক্টর ভাইরাসঃ ফ্লপি ডিস্কের প্রথম সেক্টর হলো বুট সেক্টর। হার্ডডিস্কের বুট সেক্টর হলো এর পার্টিশনের প্রথম সেক্টর। এতে ডিস্ক অথবা পার্টিশন সম্পর্কিত তথ্য থাকে; যেমন- সেক্টর সংখ্যা। এতে ছোট প্রোগ্রামও থাকে। কম্পিউটার চালু করলে এটি প্রথমে A: ড্রাইভের বুট সেক্টর পড়তে চেষ্টা করে। যদি এটি না পারে অর্থাৎ ড্রাইভে ডিস্ক না থাকে তাহলে এটি C: ড্রাইভের বুট সেক্টর পড়ে। বুট সেক্টর ভাইরাস এ সেক্টরে নিজস্ব কোড প্রতিস্থাপন করে এবং অরজিনালগুলাে ডিস্কের অন্য কোথায় স্থানান্তরিত করে। A: ড্রাইভে যদি নন বুটাবল (Bootable) ডিস্ক থাকে তাহলে কম্পিউটার চালু হয়ে এ ডিস্ক থেকে বুট হতে চেষ্টা করে এবং পর্দায় aenot Bootable” বার্তা প্রদর্শন করে। অতএব নন-বুটাবল ডিস্কে ভাইরাস থাকলে এটি সহজেই কম্পিউটারকে সংক্রমিত করে যদি কম্পিউটার শুরু হওয়ার সময় ড্রাইভে ডিস্ক থাকে।

ম্যাক্রো ভাইরাসঃ বর্তমান সময়ে এ ধরনের ভাইরাস প্রায়ই দেখা যায়। ম্যাক্রো ভাইরাস হলো প্রথম ভাইরাস যা ডেটা ফাইলসমূহকে আক্রান্ত করে। ম্যাক্রো ভাইরাস ম্যাক্রো বা OLE অবজেক্ট থেকে তৈরি হয় এবং যা অন্যান্য ভাইরাস থেকে লেখা খুবই সহজ। অনেক এপ্লিকেশনে ম্যাক্রো ল্যাংগুয়েজ রয়েছে এবং তা থেকেই ম্যাক্রো ভাইরাসের উৎপত্তি। আক্রান্ত ডকুমেন্ট বিতরণ, ব্যবহারকরণ, ফ্লপি ডিস্ক বা ইন্টারনাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ই-মেইল অ্যাটাচমেন্ট অথবা ইন্টারনেটে ফাইল ডাউনলোড থেকে ম্যাক্রো ভাইরাস ছড়ায়।

মাল্টিপারশিয়েট ভাইরাসঃ এ ধরনের ভাইরাস (যেমন- Tequila) মাল্টিপল অবজেক্টকে আক্রান্ত করে। Tequila ভাইরাসে আক্রান্ত exe ফাইল রান করলে এটি মাস্টার বুট রেকর্ডে (MBR) নিজেকে স্থাপন করে নেয়। যখন কম্পিউটার বুটআপ করা হয় Tequila মাস্টার বুট রেকর্ড থেকে রান হয় এবং মেমোরি রেসিডেন্টে যায়। Tequila মেমোরি রেসিডেন্ট হলে exe ফাইলসমূহকে আক্রান্ত করে। অন্যান্য ভাইরাস যেমন- Anticad এর কতগুলো com, exe এবং MBRs interchangeabley আক্রান্ত করে। কতগুলো আবার com, exe, MRBs এবং ডিভাইস ড্রাইভারসমূহকে আক্রান্ত করে।

ওভার রাইটিং ভাইরাসঃ এ ভাইরাস তার দ্বারা আক্রান্ত ফাইলকে নিজস্ব কোড দ্বারা ওভার রাইট করে, তাই প্রোগ্রামের আর কোনো কার্যকারিতা ক্ষমতা থাকে না। এ ভাইরাস প্রসার হওয়ার পূর্বেই ধরা খুবই সহজ। তাই সত্যিকার অর্থে এটি অতটা ভীতিকর নয়। ওভার রাইটিং ভাইরাস উইন্ডোজ৯৫ ডস সেশনে এবং উইন্ডোজ এনটি DOS এমুলিশন এনভায়রনমেন্ট রান করে। ওভার রাইটিং ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ফাইলকে অসংক্রমিত করা যায় না।

স্টিলথ ভাইরাসঃ এ জাতীয় ভাইরাস কোনো ফাইলের একটি অংশকে সরিয়ে সে স্থান দখল করে। এতে কম্পিউটার মেমোরির পরিমাণ হ্রাস পায়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x